skip
Friday , January 27 2023

পৃথিবীর শেষ প্রান্ত বলে কিছু আছে ? থাকলেও সেটা কোথায় ?

গোলাকার বস্তুর শেষপ্রান্ত বলে কিছু নেই। যেহেতু পৃখিবী গোল তাই প্রকৃতার্থে পৃথিবীরও শেষ প্রান্ত বলে কিছু নেই। কিন্তু এরপরও পৃথিবীর শেষ প্রান্ত হিসেবে পরিচিত রাশিয়ার ইয়ামাল পেনিনসুলা এলাকা। আবার পৃথিবীর শেষ মাথা হিসেবে পরিচিত নরওয়ের রোগাল্যান্ডের একটি পাহাড়ি পর্যটন এলাকা। রাশিয়ার ইয়ামাল পেনিনসুলা এলাকায় সৃষ্টি হওয়া রহস্যময় একটি গর্ত মানুষের মধ্যে নানা কৌতূহলের জন্ম দিয়ে আসছে। আর সে কারণেই রহস্যঘেরা পৃথিবীর শেষ প্রান্ত।

সম্প্রতি রাশিয়ার গবেষকরা দাবি করেছেন, ইয়ামালের গর্তটি এলিয়েন, গ্রহাণু, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত বা কোনো গ্যাস বিস্ফোরণে সৃষ্টি হয়নি। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এই গর্ত সৃষ্টির জন্য দায়ী।
গর্তটির গভীরতা খুব বেশি নয়। এটি সর্বোচ্চ ৩০০ ফুট গভীর হতে পারে। এর নিচে বরফের হ্রদ রয়েছে। এই বরফ হ্রদে গর্তের গা বেয়ে পানির ধারা বয়ে চলেছে। গর্তটি সর্বোচ্চ ৩০ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার পোলার সায়েন্টিস্ট ডক্টর ক্রিস ফগউইলের মতে, এই গর্ত তৈরি হয়েছে পিঙ্গোর কারণে।
পিঙ্গো হলো মেরু এবং এর কাছাকাছি অঞ্চলে পাওয়া এক ধরনের বরফের স্তূপ, যা মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকে। পিঙ্গোর আকৃতি বেশি বড় হলে এটা যদি গলে গিয়ে থাকে, তবে এই বিশাল গর্ত সৃষ্টি হওয়া সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ববিদ ডেভিড উইলশের মতে, এটি রহস্যজনক একটি ঘটনা। মাটি নিচের দিকে ধসে গিয়ে তৈরি হওয়া এটা কোনো সাধারণ সিঙ্ক হোল নয়, আবার কোনো উল্কাপাতের ফলেও তৈরি নয়। গর্তের কিনার ঘিরে যে জঞ্জাল দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হয় মাটির নিচ থেকে কোনো ধরনের বিস্ফোরণে এটা তৈরি হয়েছে। অবশ্য এই অঞ্চলটি ভূকম্পনপ্রবণ এলাকা নয়। এটা পকেট আকারে সঞ্চিত প্রাকৃতিক গ্যাসের বিস্ফোরণে তৈরি হতে পারে।

এই গর্তটির ৮০ শতাংশই বরফে তৈরি। ফলে এখানে বিস্ফোরণ ঘটার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা করতে হবে।
গর্তের রহস্য উদ্ধারে ইয়ামাল কর্তৃপক্ষ, রাশিয়ার সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব দ্য আর্কটিক ও ক্রায়োস্ফিয়ার ইনস্টিটিউট অব দ্য একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষকেরা কাজ করেছেন। মাটি, পানি ও বাতাস থেকে নমুনা বিশ্লেষণ করে এই রহস্য সমাধান করতে তাঁরা চেষ্টা করছেন।

রাশিয়ার গবেষক আন্দ্রেই প্লেখানভ-এর মতে, এই অঞ্চলের তাপমাত্রায় পরিবর্তন আসার ফলে এ ঘটনা ঘটেছে। হঠাত্ সৃষ্ট এই গর্তটি বৃত্তাকার নয়, বরং এটি ডিম্বাকৃতির। প্লেখানভ মনে করেন, আট হাজার বছর আগে এটি সমুদ্র ছিল। পরে এখানে ভূপৃষ্ঠ তৈরি হয়েছে। আট হাজার বছর আগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে এখন। হয়ত আগামীতে অনন্য কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা দেখা যাবে এখানে।

Check Also

আপনার কোন কোন অভ্যাস অন্যের অপছন্দের কারণ হতে পারে ?

Which habit can cause dislike of others ? আমাদের বেশ কিছু অভ্যাস আমাদের প্রিয় মানুষকে …

একজন মানুষকে কখন এড়িয়ে চলা উচিত ?

When should a person be avoided ? এমন কিছু কিছু ক্ষেত্র আছে যেখানে মানুষকে এড়িয়ে …

কীভাবে বোঝা সম্ভব একজন ব্যক্তি ভালো না খারাপ ?

How to know The person is good or bad ভাল – খারাপ বলে আসলেই কিছু …

বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ দ্রুত আবেদন করুন

Free or low cost laptop distribution সারা বিশ্বে শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে পাল্টে গেছে, তাতে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল …

ঘরে টিকটিকির উপদ্রবের হাত থেকে বাঁচার উপায় কী ?

টিকটিকি একটি বিরক্তিকর প্রাণির নাম। বেশিরভাগ বাচ্চারাই এই সরীসৃপ প্রাণিটিকে দেখে ভয় পায়। ঘরের বিভিন্ন …

যেকোনো পরীক্ষায় ভালো ফল পাওয়ার জন্য কিভাবে পড়াশোনা করতে হয় ?

How to study to get good results in any exam ? ভালো রেজাল্ট করাটা খুবই …

ধ্যান করার সময়ে কী ভাবা বা কল্পনা করা উচিত ?

What should be thought while meditating ? ধ্যানের মুখ্য উদ্দেশ্য, মন কে, কেন্দ্রীভূত করা । …

হতাশ হওয়া থেকে বাঁচার ১০টি সহজ উপায়

Ways to Avoid Disappointment বেশিরভাগ দুশ্চিন্তা, হতাশা আসে কোথাও হেরে যাওয়ার পর, আর আপনার ও …

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
একজন লেখক হিসেবে এই সাইটে জয়েন করতে চান ?
আপনার লেখা পোষ্ট পাবলিশ করুন এবং সেই পোষ্ট থেকে অর্থ উপার্জন করুন
See More & Sign Up !