লেখাপড়া শেষ এখন তো চাকরি লাগবেই,  এছাড়া কি করব ?   আমাদের সমাজে যারা লেখাপড়া সঙ্গে যুক্ত আছে এদের অধিকাংশই  এই ধরনের চিন্তা  নিয়ে  লেখাপড়া শেষ করে অথচ লেখাপড়া শেষ করে যখন চাকরির বাজারে গিয়ে দেখে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন তখনই অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীর  স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায় ।

 

কিন্তু যদি লেখাপড়া করার শুরুতেই চাকরি করার স্বপ্নকে প্রধান স্বপ্ন না বানিয়ে অন্য কোন উপায়ে বেছে নিলে হয়তো এরকম দিন দেখা লাগত না ।  এবং আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি লেখাপড়া শেষ হবার পূর্বে আপনি সফলতা অর্জন করে ফেলতে পারতেন এবং অধিক না হলেও বেশ কিছু অর্থের  মালিক হতে পারতেন ।  কিন্তু এখন আর এই সুযোগটি নেই কারণ আপনি আপনার সম্পূর্ণ সমাধি লেখাপড়া নিয়ে এবং  লেখাপড়া চাকরি এই ধরনের মনমানসিকতা পেছনে সময় ব্যয় করে ফেলেছেন । এরমধ্যে হয়তো বা অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ আছে যারা একটু বিকল্প চিন্তা ভাবনার মাধ্যমে লেখাপড়া শেষ করার পাশাপাশি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন ।

আমাদের প্রধান সমস্যাটা কি জানেন ?

আমরা সিদ্ধান্ত নিতে অনেক দেরি করে ফেলি এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না এটাই আমাদের প্রধান সমস্যা যার ফলস্বরূপ  সফলতা পেতে একটু দেরি হয় বা কারো কারো ক্ষেত্রে খুব বেশি দেরি হয়ে যায় । আসল কথায় আসি, আলোচনার বিষয়বস্তুটি ছিল চাকরি না করে নিজের ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব ? উত্তর জানতে চাইলে প্রায় 90% মানুষ একই কথা বলবে হ্যাঁ সম্ভব ।

কিন্তু কিভাবে ?
একটু আগেই একটা উদাহরণ ইতোমধ্যে আপনাদের সামনে দেওয়া হয়েছে হয়তো আপনার মনে আছে বলেছিলাম আপনার একজন বন্ধু লেখাপড়া শেষ করার আগেই ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে আর আপনি এখনো লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি হয়তোবা শেষ করে চাকরি খুঁজতে খুঁজতে অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেছেন । বার ভেবে দেখুন সময় গুলো এভাবে নষ্ট না করে আপনি কিছু একটা করলে পুরোপুরি সফল না হলেও আপনার কাজটি বেশ কিছুদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন । এখন বর্তমানে অনেকেই অনলাইন বিজনেস বা অনলাইন মাধ্যমে করার চেষ্টা করছে এবং অনেকেই এখান থেকে নিয়মিতভাবে অর্থ উপার্জন করছে ।
প্রশ্ন হলো আপনি কি করছেন ?
যদি আপনার উত্তর হা হয়ে থাকে তবে ঠিক আছে কিছুতো একটা করছেন । আর যদি উত্তর না হয়ে থাকে তবে আপনি আপনার মূল্যবান সময় এখনো নষ্ট করে চলেছেন আর এর মূল্য আপনাকে শোধ করতে হবে ।

সময় থাকতে সময় কে সঠিক জায়গা বিনিয়োগ করুন আর এই বিনিয়োগের ফল যখন পাবেন তখন খুব বেশি ভালো লাগবে ।  তবে  লেখাপড়া শেষ চাকরি করবেন এটাই তো স্বাভাবিক প্রত্যাশা করে কিন্তু একটু ভেবে দেখুন শুধুমাত্র এই আশা নিয়ে সময় কাটানো সময় নষ্ট করা কি উচিত হবে ।  কিছু একটা তো করা যেতে পারে কারণ আপনি কোনো উদ্যোগ নিলে উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি একজন মালিক হয়ে যাবেন ।  তাই এখানে আপনি অন্য কারো কাছে ধরা বাধা নেই,   আপ্নারে উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি চাকরির জন্য চেষ্টা করুন কিন্তু শুধুমাত্র চাকরি পাবার অপেক্ষায় বসে সময় নষ্ট করতে যাবেন না আর এটি করলে আপনি অনেক বড় একটা সমস্যার মধ্যে পড়ে যাবেন ।

আপনি এখন  আমাদের সাইটে এসে পড়ছেন ,  একটু ভেবে দেখুন এটা তো কেউ লিখেছে এখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে  এই লেখাটি চলে আসে নি । এবং এখান থেকে কম-বেশি হোক একটা অর্থোপার্জন হয়ে যাচ্ছে ,  এটাও এক প্রকারের কর্মসংস্থান । এটা একটা ছোট্ট উদাহরণ মাত্র বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনেকেই স্বাবলম্বী আমার পাশাপাশি একজন বড় ধরনের  উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন ।  আপনি কেন পিছিয়ে থাকবেন শুরু করুন কোনো না কোনোভাবে হয়ে যাবে । আমাদেরই এক ছোট ভাই অনলাইনে কাজ শিখে প্রতিমাসে কমপক্ষে 20 থেকে 30 হাজার নিয়মিত  উপার্জন করছে । সম্প্রতি ই-কমার্স এর ব্যবসা ও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ।  আরও একটা উদাহরণ  বলি ইভ্যালি.কম  নামটা শুনে থাকবেন । এই প্রতিষ্ঠানটির সিও একজন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা  ছিলেন  তিনি এখন ব্যবসা করছেন ।  

More Sponsord Post: 

এবার একটু এই পোস্টের টাইটেল এর দিকে নজর দেয় টাইটেল টি ছিল চাকরি না করেও নিজের ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব ! বিষয়টি জানতেন ? আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ক্যারিয়ার শব্দটি নিয়ে বেশ কনফিউজড এবং কেউ কেউ আছে যারা ক্যারিয়ার বলতে কোন প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান বা পদোন্নতি এই ধরনের বিষয়বস্তু গুলোকে মনে করেন । কিন্তু আমি মনে করি ক্যারিয়ার শব্দটির অর্থ শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ না, আপনি যেই কাজ করেন না কেন প্রতিটি কাজে ভিন্ন ভিন্ন সফলতা অর্জন করা সম্ভব এবং এই সফলতা গুলোকে ক্যারিয়ার হিসেবে ধরা যেতে পারে । ধরে নিন আপনি আজ থেকে e-commerce ব্যবসা শুরু করলেন , আপনি এটা নিয়ে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান , আবার অনেকেই ব্যবসা করতে আগ্রহী তবে বলা যেতে পারে সে তার বিজনেস ক্যারিয়ার করার জন্য চেষ্টা করছে । তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়ালো, প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন কাজের অন্তরালে ক্যারিয়ার শব্দটি যোগ করা যেতে পারে যদি কাজটি খারাপ না হয় । 

আপনার হয়তোবা মনে আছে আমরা ছোটবেলায় খরগোশ এবং কচ্ছপের একটি গল্প পড়েছিলাম ।   আপনি হয়তো জানেন না বাস্তব জীবনের সাথে এই গল্পটির একদম হুবহু মিল রয়েছে । বাস্তব জীবনেও আপনি একটু ধীরগতিসম্পন্ন হলে অন্য একজন আপনাকে ছেড়ে এগিয়ে যাবে আর আপনি পিছিয়ে পড়বেন ।  তাই সবসময় নিজেকে সামনে এগিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং যেকোনো অবস্থায় নিজেকে বর্তমান সময়ের সাথে  তাল মিলিয়ে চলার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে । প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন মনে রাখবেন পৃথিবীর কোন জায়গায় কোন কাজে লাগে সেটা বলা খুবই কষ্টকর তবে শিক্ষা কখনো বিফলে যায়না আপনি আসছেন মনে রাখবেন এটি কখনো না কখনো আপনার কাজে লাগবেই লাগবে । সেইসাথে ধৈর্য ধরুন এবং মনে রাখবেন সবকিছু শুরু থেকেই হয় এবং সবকিছু শুরু মাত্র একজনের দ্বারা শুরু হয় ।  পৃথিবীর শীর্ষ ধনী এলন মাস্ক  বুঝতে তিনি এই ধরনের একটি অবস্থানে এসে পড়বেন ।  তাই অপেক্ষা না করে শুরু করুন এবং আশা রাখুন শেষটা  অবশ্যই ভালোই হবে ।

Close

Post a Comment

Use Comment Box ! Write your thinking about this post and share with audience.

Previous Post Next Post

Sponsord

Sponsord